back to top
Saturday, November 7, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeসাহিত্য সংস্কৃতিমা কালীর কিছু অজানা ও রোমাঞ্চকর তথ্য: ভয়ংকর রূপের আড়ালে পরম মঙ্গলের...

মা কালীর কিছু অজানা ও রোমাঞ্চকর তথ্য: ভয়ংকর রূপের আড়ালে পরম মঙ্গলের বার্তা


Sharanya Ghosh: সনাতন ধর্মে মা কালী মানেই এক ভীতিপ্রদ অথচ পরম আরাধ্য রূপ। বাহ্যিক দিক থেকে তাঁর রূপ ভয়ংকর ও রোষকষায়িত মনে হলেও, সাধক ও ভক্তদের কাছে তিনি পরম করুণাময়ী, স্নেহময়ী মা। মহাশক্তি মা কালীর এমন কিছু অজানা ও রহস্যময় তথ্য আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো, যা হয়তো অনেকেরই অজানা:

১. ‘কালী’ নামের আসল অর্থ কী?
সংস্কৃত ‘কাল’ শব্দ থেকে ‘কালী’ শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ সময় বা মৃত্যু। মহাকাল বা সময়েরও অধিকর্ত্রী হলেন তিনি। যিনি সৃষ্টি, স্থিতি এবং প্রলয়ের নিয়ন্ত্রণ করেন এবং কালকে বা মৃত্যুকেও নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন, তিনিই কালী।

২. গায়ের রঙ কেন ঘোর কৃষ্ণবর্ণ?
মায়ের রূপের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর গায়ের রঙ আকাশের মতো নীল বা গভীর অন্ধকারের মতো কালো। পৌরাণিক মতে, মহাশূন্য যেমন সমস্ত আলো ও গ্রহ-নক্ষত্রকে নিজের মধ্যে ধারণ করে থাকে, তেমনি এই মহাবিশ্বের সমস্ত রূপ ও সৃষ্টির উৎস হলো এই অন্ধকার বা কৃষ্ণবর্ণ। এটি পরম শূন্যতা এবং অসীম শক্তির প্রতীক।

৩. শিবের বুকের ওপর পা রাখার নেপথ্য রহস্য
মায়ের মূর্তিতে দেখা যায় তিনি দেবাদিদেব মহাদেবের বুকের ওপর পা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এর পেছনে এক গভীর আধ্যাত্মিক তত্ত্ব রয়েছে। অসুরদের বধ করতে গিয়ে মা কালীর রাগ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তা পুরো সৃষ্টিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। তখন দেবতারা শিবের শরণাপন্ন হন। মহাদেব মায়ের পথ আটকে শুয়ে পড়েন। যখন মায়ের চরণ শিবের বুকে স্পর্শ করে, তখন মায়ের ক্রোধ শান্ত হয় এবং তিনি লজ্জা পেয়ে জিভ কামড়ে ধরেন। এটি আত্মা (শিব) এবং প্রকৃতির (শক্তি) মিলনেরও প্রতীক।

৪. মুণ্ডমালা ও নরহস্তের girdle (কোমরবন্ধনী)
মায়ের গলায় যে মুণ্ডমালা এবং কোমরে যে হাতের girdle বা নরহস্তের বেড়ী দেখা যায়, তা মানুষের অহংকার, বাসনা এবং কর্মফলের প্রতীক। সাধক যখন তার সমস্ত অহংকার ও পাপ মায়ের চরণে সমর্পণ করে, তখন মা তা নিজের গলায় বা শরীরে ধারণ করে ভক্তকে মুক্ত করেন।

আরো পড়ুন:  দুর্গাপুজোর আগে কলকাতায় নতুন নিয়ম, হোর্ডিং-ব্যানার বসাতে এবার লাগবে পুরসভার NOC

৫. ত্রিনয়নী মা
মা কালীর দুটি চোখ ছাড়াও কপালে একটি তৃতীয় নয়ন রয়েছে। এই তৃতীয় চোখটি হলো জ্ঞান ও দিব্যদৃষ্টির প্রতীক, যা অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করে পরম সত্যের আলো ফুটিয়ে তোলে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments