অশোক সেনগুপ্ত
“অভয়া আন্দোলন তার সব ক’টি দাবি পূরণে সমর্থ না হলেও এই আন্দোলন কোনও ভাবে ব্যর্থ নয়।“ রবিবার ‘সুটিয়া থেকে অভয়া- বরুণ বিশ্বাসে ও সংগ্রামে’ শীর্ষক আলোচনায় এই দাবি করেন আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ডাঃ অনিকেত মাহাতো। বরুণ বিশ্বাস স্মৃতিরক্ষা কমিটির উদ্যোগে কে পি ঘোষ মেমোরিয়াল হলে ২ য় বরুণ বিশ্বাস স্মারক বক্তৃতায় এই মন্তব্য করেন।
যুক্তি হিসাবে তিনি বলেন, প্রথমত, এই আন্দোলন মানুষের মধ্যে এক অভূতপূর্ব গণচেতনা নির্মাণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষ তথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই প্রতিবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বরুণ বিশ্বাসকে হত্যা করে প্রতিবাদী চেতনাকে হত্যা করতে পারেনি। বরুণ তাঁর জ্বালামুখী উদ্গীরণ শাসক দলকে এবং দুর্বৃত্ত শ্রেণির কাঠামোকে তটস্থ করে তুলেছে। যে চেতনা সুটিয়া ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল তার বিস্তার ঘটেছে সারা ভারতে এই অভয়া আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
দ্বিতীয়তঃ, যে ধরনের দুর্বিত্তায়ন মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ছড়িয়ে পড়িয়েছিল লাগাতার গণ আন্দোলনের ফলে তা নির্মূল না হলেও তার ব্যাপকতা এই মুহূর্তে অনেক কমেছে। বরুণের হত্যাকারীরা (একজন বাদে) অধরা থাকলেও সুটিয়ার প্রতিবাদীদের আন্দোলন এসব অঞ্চলে অপরাধের মাত্রাকে কোনঠাসা করে রেখেছে।
তৃতীয়ত, মানুষ বুঝতে পেরেছে প্রশাসন মানুষের ন্যায্য দাবি পূরণ করতে অপারগ। দুর্বিত্তায়ন যখন প্রশাসনকে আচ্ছন্ন করে তখন প্রশাসন মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যায়।তখন তার একমাত্র লক্ষ্য অপরাধের কাঠামোকে রক্ষা কর। বরুণ ঠিক এই কারনেই মৃত্যু বরণ করেছিল।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির অন্যতম সহ সভাপতি তপন কুমার সামন্ত, সহ সম্পাদক ডাঃ বিজ্ঞান বেরা, সুটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চের সভাপতি ননী গোপাল পোদ্দার, সহ সম্পাদক অর্ক মালিক ও বরুণের সহ কর্মী ও নাট্য ব্যক্তিত্ব বিপ্লব নাহা বিশ্বাস। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি হয়।

