অশোক সেনগুপ্ত
আগামী বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার থেকে পর্যায়ক্রমে আকাশবাণী ও কলকাতা দূরদর্শনে ধারাবাহিক আলোচনাসভার রেকর্ডিং শুরু হবে। সম্প্রচার শুরু হবে ১৮ এপ্রিল থেকে। এ ব্যাপারে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে সোমবার রাজ্যে ৭টি স্বীকৃত দলের প্রতিনিধিরা লটারি ও আলোচনায় আকাশবাণী ভবনে এসেছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের রূপরেখা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় দলের স্বীকৃতি রয়েছে বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআইএম, বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি), আপ এবং মেঘালয়ভিত্তিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। তৃণমূল কংগ্রেস এবং ফরওয়ার্ড ব্লক (এআইএফবি) নিজেদের সর্বভারতীয় বলে দাবি করলেও তারা প্রাদেশিক দল। এই দুই গোত্রের স্বীকৃত ৮টি-র মধ্যে ৭টি দল এদিন অংশ নেয়। এনপিপি অংশ নিতে আগ্রহ দেখায়নি। কোন দল জাতীয় বা রাজ্য-দলের মর্যাদা পাবে, তার নির্দিষ্ট সূত্র আছে।
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম পর্যায়ের ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। ঠিক হয়েছে, এর জন্য নির্বাচনী আলোচনা হবে ১৮, ১৯ ও ২০ এপ্রিল। ২য় পর্যায়ের ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। এর জন্য নির্বাচনী আলোচনা হবে ২৪, ২৫ ও ২৬ এপ্রিল। ৫, ১০ ও ১৫ মিনিট— তিন ধরণের সময়ব্যাপী আলোচনা হবে। দূরদর্শনে তথাকথিত ‘প্রাইম টাইম’-এ হবে সেগুলো।
এদিন প্রথমে বেতার, পরে দূরদর্শনের সূচী লটারির মাধ্যমে ঠিক করা হয়। বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণকারীর আবেদনে তার সামান্য পরিমার্জনের পর তৈরি হয় সূচী। দলগুলোকে জানানো হয়, প্রতিটির বরাদ্দকৃত সময়ের সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য স্টুডিওতে আলোচনার আগাম ব্যবস্থা করতে। আলোচনায় আসার আগে নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দলের প্রধানের সই করা আলোচকদের নামের উল্লেখসহ অনুমতিপত্র নিয়ে আসতে হবে।
জাতীয় দলের স্বীকৃতি না থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে প্রসার ভারতীর এই আলোচনাগুচ্ছে সবচেয়ে বেশি সময় বরাদ্দ হচ্ছে তৃণমূলের জন্য— ২২৮ মিনিট। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে বিজেপি ও সিপিএম, যথাক্রমে ১৮৯ ও ৬৩ মিঃ। এর পর যথাক্রমে কংগ্রেস (৫৭ মিঃ), এআইএফবি (৪৭মিঃ) ও বিএসপি (৪৬মিঃ)। আপ এবং এনপিপি-র বরাদ্দ ৪৫মিঃ করে। যদিও শেষোক্ত দল এবার অংশ নিচ্ছে না। প্রথম পর্যায়ে ৫, ১০ ও ১৫ মিঃ-এর আলোচনা হবে যথাক্রমে ৮, ১২ ও ১৩টি। দ্বিতীয় পর্যায়ে ওই সময়সীমার আলোচনা হবে যথাক্রমে ৮, ১১ ও ১৩টি।
সূত্রের খবর, স্বীকৃত প্রতিটি দলের জন্য ন্যূনতম সময় বরাদ্দ থাকে ৪৫মিঃ। তার পর বিগত বিধানসভা ভোটে সেই দলের প্রাপ্ত ভোটের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট সূত্রে প্রসারভারতীর আলোচনায় বরাদ্দকৃত সময় বাড়ে।



১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২৯ (ক) ধারায় পশ্চিমবঙ্গে আরও প্রায় ৭০টি দল আছে এ রাজ্য। তাদের বলা হয় ‘রেজিস্টার্ড আনরিকগনাইজড পলিটিক্যাল পার্টি’-জ (আরইউপিপি)। তারা বেতার ও দূরদর্শনের আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় না।
সমাবেশের আয়োজক-বৃন্দদের মধ্যে ছিলেন অতিরিক্ত সিইও অরিন্দম নিয়োগী। এছাড়াও ছিলেন প্রসার ভারতীর ডিডিজি এবং আকাশবাণীর বিভাগীয় প্রধান সুচিস্মিতা রায়, এডিজি (যোগাযোগ) এস. সঞ্জীব, এডিজি ধ্রুব নন্দ, ডিডিকে-র অফিস প্রধান আর.কে. রাও, প্রোগ্রাম ডিস্ট্রিবিউশনের প্রধান আশীষ মল্লিক, এবং সিইও অফিসের মিডিয়া-প্রতিনিধি অশোক সেনগুপ্ত। সমন্বয়ের প্রধান দায়িত্বে ছিলেন আকাশবাণী কলকাতার সহকারী পরিচালক ও প্রোগ্রাম প্রধান মিতালী দত্ত।


Recent Comments