নিজস্ব সংবাদদাতা: দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট থানার অন্তর্গত ১১ নম্বর চেঙ্গিসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব হরিহরপুর আদিবাসী গ্রামে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতের নাম জয়ন্ত সরেন (৩৭)।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে কাজের সন্ধানে চেন্নাইয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন জয়ন্ত। সেখানে কাজ করতে গিয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তাঁকে জোর করে কাজ করানো হয় এবং যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়নি। ক্রমে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।
সহকর্মীদের চাপে অবশেষে তাঁকে একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক সরবরাহকারী দালালদের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, চিকিৎসার খরচ বাবদ ১৫ হাজার টাকা না দিলে জয়ন্তকে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। বাধ্য হয়ে অভাবের সংসার থেকেও বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা জোগাড় করে সেই অর্থ পাঠায় পরিবার।
এরপর প্রায় দু’সপ্তাহ আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থাতেই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বাড়ি ফেরেন জয়ন্ত। কিন্তু বাড়ি ফেরার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে গত বুধবার নিজের বাড়িতেই মৃত্যু হয় তাঁর।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সময়মতো চিকিৎসা ও বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হলে জয়ন্তর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল।
মৃতের স্ত্রী বুদিন মার্ডি জানান, তিন কন্যাকে নিয়ে তাঁদের সংসার চলত দিন আনা দিন খাওয়া ভিত্তিতে। স্বামীর মৃত্যুর পর ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, শ্রমিক সরবরাহকারী হিসেবে অভিযুক্ত সত্যজিৎ মাহাতো সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনও টাকা নেননি, বরং নিজেই ১৫ হাজার টাকা দিয়ে জয়ন্তকে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে বালুরঘাট থানার আইসি সুমন্ত বিশ্বাস জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ নজরদারি চালাচ্ছে।

Recent Comments