নিজস্ব সংবাদদাতা: ভোটের আগে আয়কর হানাকে ঘিরে তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান। দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়কর দপ্তরের তল্লাশি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। শুক্রবার ভোরে শুরু হওয়া এই অভিযানের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে শাসক দলকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। কোচবিহারের রাসমেলা মাঠে এক জনসভা থেকে তিনি সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, রাজনৈতিক লড়াইয়ে পেরে উঠতে না পেরেই বিজেপি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তীব্র ভাষায় তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, তারা ভীতু ও কাপুরুষের মতো আচরণ করছে। তাঁর দাবি, ভোটের আগে তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে আয়কর দপ্তর, ইডি ও সিবিআই-সহ একাধিক সংস্থাকে সক্রিয় করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কে কটাক্ষ করে নোটবন্দির প্রসঙ্গ তোলেন। কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ হয়নি বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আয়কর আধিকারিকরা দেবাশিস কুমারের বাসভবনে পৌঁছন। পাশাপাশি মনোহরপুকুরে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয় এবং শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়েছে। একই দিনে দক্ষিণ কলকাতার আরেক তৃণমূল নেতার বাড়িতেও ইডির অভিযানের খবর সামনে আসে, যা বিতর্ককে আরও উসকে দেয়।
জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন—সব ধরনের চাপ সত্ত্বেও তৃণমূল লড়াই চালিয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী বা তদন্তকারী সংস্থার অভিযানে তারা ভয় পায় না বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষের সমর্থনই তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের ঠিক আগে এই ধরনের অভিযান এবং তার জেরে শুরু হওয়া তীব্র বাকযুদ্ধ রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন নজর বিজেপির পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং শেষ পর্যন্ত এই বিতর্ক ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই।

Recent Comments