নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই জোরদার হচ্ছে প্রশাসনের নজরদারি। বেআইনি লেনদেন, প্রভাব খাটানো বা ভোটে অর্থের অপব্যবহার রুখতে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চলছে কড়া নাকা তল্লাশি। এরই মধ্যে মালদা জেলার গাজোল থানার অন্তর্গত শালবনা মোড়ে তল্লাশির সময় উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, যা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে ওই এলাকায় নাকা তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়।
সেই সময় একটি সন্দেহজনক ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে মোট ৯০ হাজার ৩৭০ টাকা উদ্ধার হয়। তবে এত পরিমাণ নগদ অর্থ বহনের কোনও বৈধ কাগজপত্র বা প্রমাণ তিনি সঙ্গে সঙ্গে দেখাতে পারেননি। ফলে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে ওই টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়।এই ঘটনায় গাজোল থানার পুলিশ এবং নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকরা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছেন। টাকার উৎস কী, কোথা থেকে এই অর্থ আনা হচ্ছিল এবং কোথায় তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি নিজেকে ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছেন এবং জানিয়েছেন, ব্যবসার প্রয়োজনে তিনি এই টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন।যদিও প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, টাকার বৈধতা সংক্রান্ত উপযুক্ত নথি পেশ করতে পারলেই নিয়ম মেনে তা ফেরত দেওয়া হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ভোটের আগে এ ধরনের নগদ উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ রাখতে নির্বাচন কমিশন আগেই কড়া নির্দেশ জারি করেছে। সেই নির্দেশ মেনে জেলা জুড়ে চলছে নজরদারি, নাকা চেকিং এবং টহলদারি। প্রশাসনের দাবি, ভোটে কালো টাকা বা বেআইনি প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। তবে প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—আইন মেনে চললেই কোনও সমস্যা নেই, কিন্তু নিয়ম ভাঙলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Recent Comments