ভোট যত এগোচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ততই যেন মাত্রা ছাড়াচ্ছে। এবার রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিল একবালপুর (Ekbalpur) এলাকা। প্রচার ঘিরে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জ এবং সবশেষে গ্রেপ্তারির ঘটনায় রীতিমতো থমথমে গোটা এলাকা। এই ঘটনায় কলকাতা বন্দর (Kolkata Port) কেন্দ্রের বিজেপি (BJP) প্রার্থী রাকেশ সিং (Rakesh Singh)-এর বিরুদ্ধে জোড়া এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, গোটা ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল একবালপুরে?
স্থানীয় সূত্রে খবর, হোসেন শাহ রোড (Hossain Shah Road)-এ বিজেপির একটি নির্বাচনী সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলীয় প্রার্থী রাকেশ সিং এবং তাঁর কর্মী-সমর্থকরা। অভিযোগ, সভা চলাকালীন হঠাৎ করেই সেখানে শাসকদল তৃণমূল (TMC)-এর কর্মী-সমর্থকরা এসে জড়ো হন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে দুই শিবিরের বচসা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। বিজেপির অভিযোগ, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালিয়েছে শাসকদল।
অন্যদিকে, তৃণমূলের পাল্টা দাবি, বিজেপির মঞ্চ থেকে এলাকার শান্তি বিঘ্নিত করার মতো উস্কানিমূলক ও প্ররোচনামূলক বক্তব্য রাখা হচ্ছিল। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে গেলে বিজেপি কর্মীরাই প্রথম হামলা চালায়।
থানা ঘেরাও ও পুলিশের লাঠিচার্জ
রাস্তায় শুরু হওয়া এই সংঘাত খুব দ্রুতই পৌঁছে যায় একবালপুর থানার সামনে। রাকেশের নেতৃত্বে বিশাল সংখ্যক বিজেপি কর্মী-সমর্থক থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি ছিল, অবিলম্বে হামলাকারী তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সময়ে, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও থানায় পৌঁছে বিজেপির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। দুই দলের কর্মী-সমর্থকরা থানার সামনে মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু উন্মত্ত জনতাকে শান্ত করতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশকে বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করতে হয়। অভিযোগ, পুলিশের এই লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। এমনকি, রাকেশ সিংয়ের পরিবারের সদস্যরাও এই ঘটনায় রেহাই পাননি বলে দাবি করা হয়েছে। আহত কর্মীদের চিকিৎসার জন্য রাকেশ নিজে তাঁদের নিয়ে এসএসকেএম হাসপাতাল (SSKM Hospital)-এ ছুটে যান। রক্তাক্ত ও আহত কর্মীদের দেখে স্বভাবতই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি।


Recent Comments