রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার টলিউড বা বিনোদন জগতের অন্দরে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বঞ্চনার বিস্ফোরক বহিঃপ্রকাশ ঘটল। বকেয়া পারিশ্রমিক না পাওয়া, স্টুডিওপাড়ায় স্বজনপোষণ এবং কাজের নামে আর্থিক দুর্নীতির একগুচ্ছ নালিশ নিয়ে এবার সরাসরি রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র ‘জনতার দরবারে’ (Janatar Darbar) হাজির হলেন টলিউডের একঝাঁক বিক্ষুব্ধ শিল্পী ও কলাকুশলী।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে এবং তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক সমাধানের লক্ষ্যে শুভেন্দু অধিকারী এই ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি চালু করেছেন। এবার সেই মঞ্চেই বিনোদন জগতের এই হেভিওয়েট শিল্পীদের উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতি এবং স্টুডিওপাড়া— উভয়ক্ষেত্রেই নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে।
বকেয়া টাকা থেকে সিন্ডিকেট রাজ— ক্ষোভের পাহাড় মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতকালে শিল্পীরা টলিপাড়ার বর্তমান প্রশাসনিক পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তাঁদের মূল দাবি ও অভিযোগগুলি হলো:
- বকেয়া পারিশ্রমিক: বহু নামী প্রযোজনা সংস্থা দিনের পর দিন কাজ করিয়ে নেওয়ার পরও অভিনেতা ও টেকনিশিয়ানদের লভ্য পারিশ্রমিক বা বকেয়া টাকা মেটাচ্ছে না। মাসের পর মাস ঘুরেও মিলছে না সুরাহা।
- সিন্ডিকেট ও স্বজনপোষণ: স্টুডিওপাড়ার একটি নির্দিষ্ট মহলের ‘সিন্ডিকেট রাজ’ এবং স্বজনপোষণের কারণে যোগ্য ও প্রবীণ শিল্পীরা কাজ হারাচ্ছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতেও কাজের সুযোগ ঠিক হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
- আর্থিক দুর্নীতি: বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ইশারায় ফেডারেশন এবং বিভিন্ন সংগঠনে সাধারণ কলাকুশলীদের ভাতার টাকা নিয়ে ব্যাপক আর্থিক নয়ছয় করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে হাজির হওয়া শিল্পীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিগত দিনে এসব বিষয়ে মুখ খুললেই তাঁদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। কিন্তু রাজ্যে নতুন জমানা আসার পর তাঁরা নিজেদের হকের লড়াইয়ে কোমর বেঁধে নেমেছেন।
খতিয়ে দেখে কড়া ব্যবস্থার আশ্বাস শুভেন্দুর
আন্দোলনকারী ও ক্ষুব্ধ শিল্পীদের সমস্ত অভাব-অভিযোগ অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে শোনেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সংস্কৃতির পীঠস্থান কলকাতায় কোনো রকম ‘সিন্ডিকেট রাজ’ বা ‘দাদাগিরি’ বরদাস্ত করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে টলিপাড়ার সমস্ত বকেয়া টাকা ও দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে। কোনো শিল্পী যাতে তাঁর ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হন এবং ভয়ের পরিবেশ মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, নতুন সরকার তা নিশ্চিত করবে।
নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর টলিউডের ওপর ঘাসফুল শিবিরের যে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছিল, তাতে বড়সড় ফাটল ধরেছে। শুভেন্দু অধিকারীর এই আশ্বাসের পর টলিপাড়ার সমীকরণ আগামী দিনে কোন দিকে ঘোরে এবং কোন কোন বড় মাথার নাম এই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে, এখন সেটাই দেখার।


Recent Comments