back to top
Sunday, April 12, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeকলকাতা"আমি সিবিআই অফিসার বলছি!" ভিডিও কলে 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট'-এর ফাঁদে সল্টলেকের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা,...

“আমি সিবিআই অফিসার বলছি!” ভিডিও কলে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ফাঁদে সল্টলেকের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা, খোয়ালেন ১০ লক্ষ

প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, ততই যেন চতুর হচ্ছে প্রতারকরা। এবার তাদের টার্গেট শহরের শিক্ষিত এবং প্রবীণ নাগরিকরা। ফের কলকাতায় বড়সড় ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest) জালিয়াতির ঘটনা ঘটল। সল্টলেকের বিডি ব্লকের বাসিন্দা, এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা এই ফাঁদে পা দিয়ে খোয়ালেন সারা জীবনের সঞ্চিত প্রায় ১০ লক্ষ টাকা।

ঘটনার বিবরণ: পুলিশ সূত্রে খবর, গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই বৃদ্ধার মোবাইলে একটি হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কল আসে। ফোনের ওপারে দেখা যায় পুলিশের উর্দি পরিহিত এক ব্যক্তিকে, যার ব্যাকগ্রাউন্ডে থানার মতো সেটআপ। ওই ব্যক্তি নিজেকে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের সিবিআই অফিসার হিসেবে পরিচয় দেয়। সে বৃদ্ধাকে জানায়, তাঁর আধার কার্ড ব্যবহার করে তাইওয়ানে একটি পার্সেলে মাদক ও বেআইনি পাসপোর্ট পাঠানো হয়েছে। এবং এই মুহূর্তে তাঁর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

ভয়ের খেলা বা ‘ফিয়ার সাইকোসিস’: প্রতারকরা বৃদ্ধাকে এতটাই ভয় দেখায় যে, তিনি যেন ফোন না কাটেন। একেই বলা হচ্ছে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’। তাঁকে বলা হয়, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ভিডিও কল থেকে বের হতে পারবেন না এবং কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। এরপর ‘মানি লন্ডারিং’ চেক করার নাম করে তাঁর ব্যাঙ্কের সমস্ত টাকা একটি ‘আরবিআই ভেরিফায়েড’ (যা আসলে প্রতারকদের অ্যাকাউন্ট) অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করতে বলা হয়। ভয়ে এবং সম্মানের কথা ভেবে বৃদ্ধা ১০ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করে দেন।

পুলিশি পদক্ষেপ: টাকা পাঠানোর কিছুক্ষণ পর ভিডিও কল কেটে গেলে বৃদ্ধা বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এরপর তিনি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং যে অ্যাকাউন্টে টাকা গেছে, তা ফ্রিজ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সাইবার বিশেষজ্ঞ সন্দীপ সেনগুপ্ত নিউস্কোপ বাংলাকে বলেন, “মনে রাখবেন, ভারতীয় আইনে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বলে কিছু নেই। কোনো পুলিশ বা সিবিআই ভিডিও কলে জেরা করে না বা টাকা চায় না। এমন ফোন এলে ঘাবড়াবেন না, সোজা থানায় জানান।”

আরো পড়ুন:  আনন্দপুরের অভিশপ্ত মোমো কারখানায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১! ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও নিখোঁজ বহু, গ্রেফতার ২ ম্যানেজার

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, সচেতনতার অভাবে শুধু অশিক্ষিত নয়, উচ্চশিক্ষিতরাও আজ সাইবার প্রতারকদের সহজ শিকার।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments