থেকেই যেন এক নতুন রহস্যের ঘনঘটা। হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি নাম— ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (Nationalist Citizens Party of India) বা এনসিপিআই (NCPI)। যে দলের নাম এতদিন রাজ্যের সাধারণ মানুষ প্রায় শোনেননি, সেই দলই এখন রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) থেকে বিদ্রোহী হয়ে ওঠা এক ঝাঁক সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) সঙ্গে দেখা করে যখন জানালেন যে, তাদের ব্লক এনসিপিআই-এ মিশে যাচ্ছে, তখনই এই দলটির অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসে।
ফেসবুকে নতুন চমক
হঠাৎ করে রাজনৈতিক গুরুত্ব পাওয়া এই এনসিপিআই এবার নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে ফেসবুকের শরণাপন্ন হয়েছে। দলটির নামে খোলা হয়েছে একটি নতুন ফেসবুক পেজ। প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত এই পেজটিতে অনুসারীর সংখ্যা ৮৭০ ছাড়িয়েছে এবং তা ক্রমশ বাড়ছে। তবে পেজটি খোলার পরপরই সেখানে বিতর্কিত কিছু পোস্ট দেখা গেছে।
পেজটিতে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাগত জানিয়ে পোস্ট করা হয়। এমনকি বারাসত (Barasat)-এর সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)-কে লোকসভার দলনেতা হিসেবে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। এরপর একটি গ্রাফিক পোস্টের মাধ্যমে তারা দাবি করেছে, লোকসভার আসন সংখ্যার বিচারে এনসিপিআই এখন পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। তাদের দাবি অনুযায়ী, রাজ্যে বিজেপি (BJP)-র ১২ জন এবং তৃণমূলের ৮ জন লোকসভার সাংসদ থাকলেও, এনসিপিআই-এর সাংসদ সংখ্যা ২০। এই পোস্টের মাধ্যমেই তারা দাবি করেছে যে, জাতীয় স্তরে রাজ্যের কণ্ঠস্বর এখন তারাই।
কোথায় এই দলের মূল ঘাঁটি?
ফেসবুক পেজে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দলটির প্রধান কার্যালয় হাওড়া (Howrah)-র সাঁকরাইল (Sankrail) থানা এলাকার হাটগাছা (Hatgacha) গ্রামে অবস্থিত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদতে ত্রিপুরা (Tripura)-তে আত্মপ্রকাশ করা এই রাজনৈতিক দলটির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন হাটগাছার বাসিন্দা শিউলি কুন্ডু (Shiuli Kundu)। স্থানীয়দের একাংশের মতে, পেশায় আইনজীবী শিউলি দীর্ঘ দিন ধরে সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। ২০২২ সাল থেকে হাটগাছায় এই কার্যালয়টি রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই দলটি অংশগ্রহণ করলেও, পরবর্তীতে লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে সেভাবে কোনো প্রার্থী দিতে দেখা যায়নি তাদের।
রহস্যের কিনারা কোথায়?
রবিবার এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর হাওড়ার হাটগাছায় অবস্থিত দলের কার্যালয়ের সামনে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হয়। যদিও সেখানে গিয়ে দলের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শান্তনু দে (Shantanu De)-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। আজকের এই ঘটনার বিষয় কিছু জানানো হয়নি। যদি জানতাম তা হলে আমি এর বিরোধিতা করতাম। এখনও বিরোধিতা করছি” । দলের বর্তমান সভাপতি উত্তীয় কুন্ডু (Uttiya Kundu) অবশ্য এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি। অন্যদিকে, শিউলি কুন্ডু জানিয়েছেন তিনি প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তবে পদত্যাগ করেছেন। তৃণমূলের এই বিদ্রোহী সাংসদদের যোগদানের বিষয়ে তিনি শুধুমাত্র ‘হ্যাঁ’ সূচক সম্মতি দিলেও, বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।


Recent Comments