কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Abhijit Gangopadhyay) পর এবার কি রাজনীতির ময়দানে নামতে চলেছেন আরও এক বিচারপতি? জল্পনা তুঙ্গে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু-কে (Justice Biswajit Basu) নিয়ে। সংবাদ প্রতিদিন-এর প্রতিবেদন এবং রাজনৈতিক মহলের ফিসফাস অনুযায়ী, অবসর নেওয়ার আগেই বা ঠিক পরেই তিনি সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন। আর গন্তব্য হতে পারে সেই ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি (BJP)।
কেন এই জল্পনা? বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু হাইকোর্টের (High Court) সেই সব বিচারপতিদের মধ্যে অন্যতম, যাঁদের রায় এবং পর্যবেক্ষণ বারবার রাজ্য সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশেষ করে স্কুল নিয়োগ দুর্নীতি (School Jobs Scam) মামলায় তাঁর কঠোর অবস্থান এবং সিবিআই (CBI) তদন্তের নির্দেশ তাঁকে শিরোনামে এনেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে তাঁর কড়া মনোভাবই তাঁকে বিরোধী শিবিরের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
বিজেপির (BJP) ‘সেফ সিট’ কি প্রস্তুত? সূত্র মারফত খবর, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিচারপতি বসুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। শোনা যাচ্ছে, লোকসভা নির্বাচনে (Loksabha Election) তাঁকে প্রার্থী করার প্রস্তাবও দেওয়া হতে পারে। তমলুক থেকে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যেমন প্রার্থী হয়েছিলেন, তেমনই কোনো ‘সেফ সিট’ বা নিরাপদ আসন থেকে তাঁকে দাঁড় করানোর পরিকল্পনা রয়েছে গেরুয়া শিবিরের। তবে তিনি এখনই পদত্যাগ করবেন নাকি অবসরের পর যোগ দেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিচারপতি বসুর ‘কড়া’ ইমেজ: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অযোগ্য শিক্ষকদের চাকরি বাতিল থেকে শুরু করে গ্রুপ-ডি (Group-D) কর্মীদের বেতন বন্ধ করা—একাধিক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন বিচারপতি বসু। এজলাসে বসেই তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে।” তাঁর এই ‘অ্যাক্টিভিস্ট’ রূপ (Activist Mode) তাঁকে সাধারণ মানুষের একাংশের কাছে ‘মসিহা’ বানিয়েছে, যা ভোটে ডিভিডেন্ড দিতে পারে বলে মনে করছে বিজেপি।
তৃণমূলের (TMC) প্রতিক্রিয়া: এই জল্পনার খবরে স্বভাবতই ক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, কিছু বিচারপতি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে রায় দিচ্ছেন। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর যদি বিশ্বজিৎ বসুও একই পথে হাঁটেন, তবে বিচারবিভাগের নিরপেক্ষতা (Judicial Neutrality) নিয়ে শাসক দল আরও জোরালো প্রশ্ন তুলবে।
এখন দেখার, বিচারপতির কালো কোট ছেড়ে বিশ্বজিৎ বসু সত্যিই রাজনীতির গেরুয়া উত্তরীয় গায়ে জড়ান কি না। নাকি সবটাই নিছক জল্পনা হয়েই থেকে যাবে? নিউস্কোপ বাংলা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
