সকালবেলা অফিস বেরোনোর তাড়ায় বাসে বা গাড়িতে উঠে সিগন্যালে (Signal) আটকে পড়ার সেই বিরক্তি—কলকাতার নিত্যযাত্রীদের কাছে খুব চেনা। কিন্তু জানেন কি, এই বিরক্তি শুধু মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে না, বরং আপনার জীবনের মূল্যবান সময়ও গিলে খাচ্ছে? সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যানজটে বা ট্রাফিক জ্যামে (Traffic Jam) আটকে থাকার কারণে বছরে গড়ে ১৫০ ঘণ্টা বা প্রায় ৬ দিন ৫ ঘণ্টা সময় নষ্ট করছেন কলকাতাবাসী! বিশ্বের অন্যতম যানজটপূর্ণ শহর বেঙ্গালুরু (Bengaluru)-র ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে আমাদের সিটি অফ জয়।
টমটম ট্রাফিক ইনডেক্স (TomTom Traffic Index) কী বলছে? বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরের ট্রাফিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি বছর রিপোর্ট প্রকাশ করে এই সংস্থা। তাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুতে একজন যাত্রীর বছরে ১৬৮ ঘণ্টা নষ্ট হয় রাস্তায়। আর কলকাতা (Kolkata) খুব একটা পিছিয়ে নেই—এখানে নষ্ট হচ্ছে ১৫০ ঘণ্টা। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, কলকাতায় মাত্র ৪.৩ কিলোমিটার রাস্তা যেতে গড়ে ১৫ মিনিট সময় লেগে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের ‘রোড স্পেস’ (Road Space) বা রাস্তার জায়গা মাত্র ৬ শতাংশ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এখনই রাশ না টানলে বেঙ্গালুরুকে টপকে যেতে বেশি সময় লাগবে না কলকাতার।
লালবাজারের (Lalbazar) নড়েচড়ে বসা: রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার (Supratim Sarkar) ট্রাফিক বিভাগের বড়-মেজো কর্তাদের কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁর সাফ নির্দেশ—”অফিসে বসে শুধু ফাইলে সই করলে চলবে না, রাস্তায় নামতে হবে।”
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী:
- ফিল্ড ডিউটি: সমস্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারকে (AC) সকাল ৯টা থেকে ১০:৩০টার মধ্যে রাস্তায় নেমে ট্র্যাফিকের তদারকি করতে হবে।
- লাইভ আপডেট: এসি-দের মোবাইলে একটি বিশেষ লিঙ্ক পাঠানো হবে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেই লিঙ্কে ক্লিক করে ট্র্যাফিকের লাইভ আপডেট (Live Update), ছবি ও ভিডিও সরাসরি কমিশনারকে পাঠাতে হবে।
- তৎপরতা: ডিসি ট্রাফিক (DC Traffic) ওয়াই শ্রীকান্ত জগন্নাথ রাও (Y. Srikant Jagannath Rao) নিজেই শহর চষে বেড়াচ্ছেন। বড় কর্তাদের রাস্তায় দেখে নিচুতলার কর্মীরাও এখন তটস্থ।
পুলিশ কী বলছে? পুলিশ কর্মীদের একাংশের দাবি, এই নতুন পদক্ষেপে জ্যামের উৎস বা ‘বটল নেক’ (Bottle Neck) পয়েন্টগুলো দ্রুত চিহ্নিত করা যাচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এর সুফল মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, মিছিল-মিটিং আর মেট্রোর কাজের ফ্যারে কি সত্যিই মুক্তির পথ মিলবে? নাকি ১৫০ ঘণ্টার এই অঙ্ক আগামী বছর আরও বাড়বে? উত্তরের অপেক্ষায় জ্যামে আটকে থাকা শহরবাসী।
