চন্দ্রযান-৩ (Chandrayaan-3)-এর রোভার প্রজ্ঞান যখন চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে এঁকে দিয়েছিল ভারতের জয়পতাকা, তখন গোটা বিশ্ব কুর্নিশ জানিয়েছিল ইসরো (ISRO)-কে। সেই ইতিহাসের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও বড় মিশনের জন্য কোমর বাঁধছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। লক্ষ্য সেই চাঁদের দক্ষিণ মেরুই (South Pole), তবে এবারের কাজটা আরও কঠিন। চন্দ্রযান-৪ (Chandrayaan-4) শুধু চাঁদে নামবে না, সেখান থেকে মাটি বা শিলা খোদাই করে নিয়ে আসবে পৃথিবীতে! আর এর জন্য সম্ভাব্য অবতরণস্থল বা ল্যান্ডিং সাইট হিসেবে ইসরো বেছে নিয়েছে সেই ‘শিবশক্তি পয়েন্ট’ (Shiv Shakti Point)-এর কাছাকাছি এলাকাকেই।
কেন আবার দক্ষিণ মেরু? ইসরো সূত্রে খবর, চন্দ্রযান-৪-এর জন্য দক্ষিণ মেরুর কাছে একাধিক জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞানীদের বিশেষ নজরে রয়েছে ‘মঁস মুটোঁ’ (Mons Mouton) এলাকা। এটি চাঁদের সর্বোচ্চ পর্বত এবং দক্ষিণ মেরুর এক গুরুত্বপূর্ণ ভূতাত্ত্বিক অঞ্চল। প্রায় ৮৬ ডিগ্রি অক্ষাংশে অবস্থিত এই অঞ্চলে সূর্যের আলো বেশিক্ষণ থাকে, যা সোলার পাওয়ার বা সৌরশক্তি চালিত রোভারের জন্য আদর্শ। তাছাড়া এখানে প্রাচীন ভূত্বক এবং বরফ বা জলের অস্তিত্ব মেলার সম্ভাবনা প্রবল, যা ভবিষ্যতের মানুষের বসতি গড়ার চাবিকাঠি হতে পারে।
মিশনের ব্লু-প্রিন্ট: চন্দ্রযান-৪ মিশনটি আগেরগুলোর চেয়ে অনেক বেশি জটিল। এটি হবে ভারতের প্রথম ‘স্যাম্পেল রিটার্ন মিশন’ (Sample Return Mission)। অর্থাৎ, চাঁদে গিয়ে সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসা। এর জন্য দুটি ধাপে রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে। ১. প্রথম ধাপ: পৃথিবী থেকে চাঁদের কক্ষপথে মডিউল পাঠানো। ২. দ্বিতীয় ধাপ: ল্যান্ডার নেমে মাটি সংগ্রহ করবে। ৩. তৃতীয় ধাপ: সেই মাটি নিয়ে একটি অংশ ফের চাঁদের কক্ষপথে উঠে আসবে। ৪. চতুর্থ ধাপ: কক্ষপথে থাকা মডিউলের সঙ্গে ডকিং (Docking) বা জুড়ে গিয়ে সেই নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে।
এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য দুটি শক্তিশালী LVM-3 রকেট ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসরোর।
২০২৮-এর লক্ষ্যমাত্রা: সব ঠিক থাকলে ২০২৮ সালের আশেপাশেই চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেবে চন্দ্রযান-৪। এরপর জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে লুপেক্স (LUPEX) বা চন্দ্রযান-৫ মিশনের পরিকল্পনাও রয়েছে। চন্দ্রযান-১ যেমন বিশ্বের সামনে চাঁদে জলের হদিশ দিয়েছিল, চন্দ্রযান-৪ হয়তো চাঁদের জন্মরহস্যের জট খুলবে।
ভারতের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের এই নতুন স্বপ্ন কি সফল হবে? ১৪০ কোটি ভারতবাসী এখন সেই আশাতেই দিন গুনছে।
