তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অন্দরে ক্রমশ জটিল হচ্ছে সমীকরণ। গত কয়েক দিন ধরেই দলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভের কথা বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছিল। তবে শনিবার পরিস্থিতির নাটকীয় মোড় নেয়, যখন জানা যায় যে বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। এতদিন পর্যন্ত যে সংখ্যাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো চলছিল, এবার সেই দাবিকে আরও জোরালো করে তুললেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)।সাংসদদের দিল্লিতে পাড়িদিল্লির (Delhi) উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন দলের একাংশ সাংসদ। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে খবর ছড়িয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল ১৯ জন সাংসদ দলের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তবে পরিস্থিতি যে আরও জটিল, তা এদিন পরিষ্কার করে দেন কাকলি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিদ্রোহীর সংখ্যা ২০ জন নয়, বরং ২২ জন। এই ২২ জনের দিল্লি যাত্রা যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন ভূমিকা
এই পুরো ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Bandyopadhyay)। দীর্ঘদিন ধরে দলের নীতি নির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই প্রবীণ সাংসদের বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখানো এক বড় চমক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্ভবত এই বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে বসতে চলেছেন। অতীতে তিনি দলের বহু কঠিন সময়ের সাক্ষী থেকেছেন, কিন্তু এবার দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাঁর এই অবস্থান গ্রহণের পেছনে কোন সমীকরণ কাজ করছে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বাকি দু’জন কে?
প্রাথমিক তালিকায় ১৯ জনের স্বাক্ষর থাকলেও, সুদীপের যোগদানের পর তা বেড়ে দাঁড়ায় ২০-এ। কিন্তু কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দেওয়া ২২ জনের পরিসংখ্যান নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠছে, এই তালিকায় থাকা অতিরিক্ত দু’জন সদস্য কারা? দলের অন্দরে কি আরও বড় কোনো ভাঙন অপেক্ষা করছে? সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক—সবার চোখ এখন দিল্লির দিকে।নেপথ্যে কী?দলের অন্দরে ক্ষোভের মূল কারণ কী? কোনো নির্দিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে মতবিরোধ, নাকি অন্য কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো অধরা। তবে তৃণমূলের এই ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময় বলবে। বিশেষ করে, যখন রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট কিংবা লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে ছক কষছে সব দল, তখন দলের ভেতরের এই অস্বস্তি বড় কোনো ধাক্কা হয়ে আসতে পারে।


Recent Comments