বাইরে থেকে দেখলে সব স্বাভাবিক—পাড়ার মোড়ে সন্ধ্যার চায়ের আড্ডা, দেখা হলে মুচকি হাসি, একসঙ্গে ওঠাবসা। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার আড়ালেই যেন কোথাও সুর কেটে গেছে। অদৃশ্য এক টানাপোড়ন আজও রয়ে গেছে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে।প্রায় এক বছর আগে ওয়াকফ আইন বাতিলের দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এলাকা। সেই সময়ের হিংসাত্মক ঘটনায় প্রাণ হারান বাবা হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাস। ঘটনায় জড়িতদের আজীবন কারাদণ্ড হলেও, সেই রক্তাক্ত স্মৃতি এখনও সম্প্রীতির ভাঁজে ফাটল তৈরি করে রেখেছে।
যদিও বাইরে থেকে তার স্পষ্ট প্রকাশ পাওয়া যায় না।স্থানীয় কংগ্রেস নেতা ও ধুলিয়ানের প্রাক্তন পুরপ্রধান সফর আলির মতে, “এখন এলাকা শান্ত হলেও, সেই ঘটনার প্রভাব এখনও রয়ে গেছে। দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যা ভোটের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।” তাঁর দাবি, হিন্দু ভোটের একাংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকছে, আবার অন্য অংশ কংগ্রেসকেও সমর্থন করছে।গত ১২ এপ্রিল নিহতদের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা করে বিজেপি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্যরাও।
বিজেপি নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পারুল দেবী বলেন, “প্রথম থেকেই বিজেপি আমাদের পাশে ছিল। শুভেন্দু অধিকারী আমাদের খোঁজ নিয়েছেন, অন্য কেউ আসেনি।” একইসঙ্গে এলাকায় আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন থাকলেও আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি বলে জানান স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের মতে, আপাত শান্তির আবহ থাকলেও ভোটকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ, তৃণমূলের প্রার্থী পরিবর্তন, এবং কংগ্রেস-বিজেপির মধ্যে সরাসরি লড়াই—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।সিপিএম নেতা সোমনাথ সিংহ রায়ের কথায়, “শান্তি ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু ক্ষত এখনও শুকোয়নি।” যদিও তৃণমূল প্রার্থী খলিলুর রহমানের দাবি, “উন্নয়নই শেষ কথা বলবে।”সব মিলিয়ে, বাহ্যিক শান্তির আড়ালে সামশেরগঞ্জে ভোটের উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে—যেখানে পুরনো ক্ষত, রাজনৈতিক সমীকরণ আর মানুষের মনস্তত্ত্ব মিলেমিশে তৈরি করছে এক জটিল পরিস্থিতি।

Recent Comments