দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের আনা নতুন ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল’ বা ডিলিমিটেশন বিলের (Delimitation Bill) বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA Bloc)। বুধবার দিল্লিতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জোটের শরিক দলগুলো সর্বসম্মতভাবে এই বিলের বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিলের আড়ালে বিজেপি (BJP) সরকার আসলে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যের রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে দেওয়ার ছক কষছে।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিরোধী দলগুলো নারী আরক্ষণের (Women’s Reservation) বিরোধী নয়, কিন্তু যেভাবে ডিলিমিটেশন বা আসন সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিকে এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে ঘোরতর আপত্তি রয়েছে। বিরোধী নেতাদের দাবি, ২০২৬ সালের এই প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলটি ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর এক বড় আঘাত। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারত (South India) এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের (North East India) রাজ্যগুলোর জন্য এটি একটি অশনি সংকেত।
মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, “সরকার চাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে। আমরা নারী আরক্ষণকে সমর্থন করি, কিন্তু ডিলিমিটেশনের নামে যে খেলা শুরু হয়েছে, তা বিরোধী কণ্ঠস্বর রোধ করার একটি রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।” জয়রাম রমেশের (Jairam Ramesh) মতো প্রবীণ নেতারাও এই বিলকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধন বিলে লোকসভার (Lok Sabha) আসন সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৮১৫টি আসন রাজ্যগুলোর জন্য এবং ৩৫টি আসন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা বলা হয়েছে। বিরোধীদের মূল আশঙ্কার জায়গা হলো—জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টন হলে উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) বা বিহারের (Bihar) মতো জনবহুল রাজ্যগুলোর আসন সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়বে। অন্যদিকে, কেরল (Kerala), তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) বা পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)-এর মতো যে রাজ্যগুলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, জাতীয় রাজনীতিতে তাদের প্রভাব আনুপাতিকভাবে কমে যাবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডিএমকে (DMK) নেতা টি.আর. বালু (T.R. Baalu), আরজেডি (RJD) নেতা তেজস্বী যাদব (Tejashwi Yadav) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) প্রতিনিধিরা। প্রত্যেকেই একসুরে জানিয়েছেন, জনগণনা বা সেনসাস (Census) ছাড়াই তড়িঘড়ি কেন এই বিল আনা হচ্ছে, তা নিয়ে তারা সন্দিহান। উল্লেখ্য, অসম (Assam) ও জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) সাম্প্রতিক ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় যেভাবে সীমানা বিন্যাস করা হয়েছে, তাকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে বলে দাবি করেন জয়রাম রমেশ।
বিরোধীদের দাবি, সরকারের উচিত ছিল সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে এবং একটি স্বচ্ছ জনগণনা প্রক্রিয়া শেষ করে তবেই এই স্পর্শকাতর বিষয়ে হাত দেওয়া। ডিলিমিটেশন কমিশনের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা অর্পণ করার বিষয়টিকেও ভালো চোখে দেখছেন না তারা। সংসদের আসন্ন বিশেষ অধিবেশনে এই বিলের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ভোটাভুটি এবং রাজপথে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট।


Recent Comments