রাজ্যজুড়ে যেন এক অদ্ভুত এবং অজানা আতঙ্কের ছায়া! গত কয়েকদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে আদালতে বোমাতঙ্কের খবর সামনে আসছিল। এবার সেই আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়াল হুগলি (Hooghly) জেলা। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের Post Office-এ এল ভয়াবহ হুমকি দেওয়া বেনামি E-mail। আর এই ঘটনার জেরে শুক্রবার সকাল থেকেই চরম বিশৃঙ্খলা এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হুগলির (Hooghly) চুঁচুড়া (Chinsurah) সদর Post Office এবং শ্রীরামপুর (Serampore) মহকুমা Post Office চত্বরে।
নিউজস্কোপ বাংলার (Newscope Bangla) নিজস্ব সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে আচমকাই ওই দুটি Post Office-এর দাপ্তরিক E-mail ID-তে একটি মেসেজ এসে পৌঁছায়। সেই মেসেজের বয়ান ছিল শিউরে ওঠার মতো। সেখানে স্পষ্টভাবে ‘জেহাদের তত্ত্ব’ তুলে ধরে লেখা হয়েছিল, “আজ পবিত্র শুক্রবার আসল জিহাদ হবে!” এই লাইনটি পড়া মাত্রই Post Office-এর কর্মীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য এবং আতঙ্ক গ্রাস করে। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় Police প্রশাসনকে। নিরাপত্তার খাতিরে এবং কোনও বড়সড় দুর্ঘটনা এড়াতে মুহূর্তের মধ্যে Post Office থেকে সমস্ত কর্মী এবং সাধারণ গ্রাহকদের বাইরে বের করে আনা হয়।
চুঁচুড়া (Chinsurah) Head Post Office-এর Postmaster সৌমিত্র দত্ত (Soumitra Dutta) এই ভীতিকর পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, “বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও আমাদের কাছে এই বোমাতঙ্কের E-mail আসে। কর্মীদের এবং সাধারণ মানুষের জীবনের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে দ্রুত সকলকে Building থেকে বাইরে বের করে আনা হয়। এর ফলে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত Office-এর সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলাম আমরা।” তিনি আরও যোগ করেন, নিরাপত্তার কারণে গ্রাহকদের এই আকস্মিক ভোগান্তিতে পড়তে হলেও, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর তাঁরা পুনরায় পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং হতাশা বাঁধ মানছে না। অনেকেই অনেক দূর থেকে নিজেদের জরুরি কাজ মেটাতে এসেছিলেন। যেমন, শুক্রবার চুঁচুড়া (Chinsurah) Post Office-এ Passport-এর কাজ করাতে এসেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা অনিকেত সাউ (Aniket Sau)। তিনি চরম বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, “Passport-এর খুব জরুরি কাজের জন্য সকাল থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। আর এখন হঠাৎ করে শুনছি বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছে! সবাইকে বের করে দেওয়া হল, Office-এর সব কাজ বন্ধ। বারবার এই ধরণের ভিত্তিহীন ঘটনায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের অকারণে চূড়ান্ত সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।” একই কথা শোনা গেল আরেক গ্রাহক সৈকত দত্তের (Saikat Dutta) গলাতেও। তিনি নিজের Office থেকে বিশেষ ছুটি নিয়ে এসেছিলেন জরুরি কাজের জন্য, কিন্তু বোমাতঙ্কের জেরে তাঁকেও খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।
এই ঘটনার পর থেকে রাজ্য তথা ভারতের (India) সাধারণ মানুষের মনে একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। বারবার কারা এই ধরণের হুমকি E-mail পাঠাচ্ছে? আধুনিক প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়েও Police বা Cyber Crime বিভাগ কেন অপরাধীদের IP Address Trace করে তাদের কলার চেপে ধরতে পারছে না?
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। গোটা ঘটনার জন্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির গাফিলতিকে সরাসরি দায়ী করেছেন চুঁচুড়ার (Chinsurah) তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার (Asit Majumdar)। তিনি কড়া ভাষায় তোপ দেগে বলেন, “Post Office তো সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি দপ্তর! রাজ্যে তৃণমূলের কিছু হলে তো সঙ্গে সঙ্গে ওরা Central Investigation Agency পাঠিয়ে দেয়। তাহলে আজ মানুষের এত বড় ভোগান্তি হচ্ছে জেনেও তারা এই ক্ষেত্রে এতটা উদাসীন কেন?” তবে তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, গোটা বিষয়টি ইতিমধ্যেই চন্দননগর (Chandannagar) Police Commissioner-কে জানানো হয়েছে এবং তিনি আশাবাদী যে খুব দ্রুত এই সমস্যার কিনারা হবে।
অন্যদিকে, জেলা Police-এর এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন যে তাঁরা এই হুমকি E-mail-এর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তবে Investigation বা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে নারাজ প্রশাসন। এই ঘটনার জেরে হুগলি (Hooghly) জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, তা কবে কাটে, এখন সেটাই দেখার। রাজ্য জুড়ে ঘটে চলা এমন প্রতিটি চাঞ্চল্যকর খবরের Update পেতে সর্বদা চোখ রাখুন নিউজস্কোপ বাংলার (Newscope Bangla) পাতায়।
