গ্ল্যামার দুনিয়ার চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার দিকটি আবারও প্রকাশ্যে এল। টলিউড (Tollywood) তথা বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় (Srabanti Chatterjee) এবার নেটপাড়ার কুরুচিকর আক্রমণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিলেন। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে অভিনেত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, “সবকিছুর একটা শেষ আছে।” সমাজমাধ্যমে লাগাতার বডি শেমিং (Body Shaming) এবং অশালীন মন্তব্যের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
কী ঘটেছিল ঠিক?
ঘটনার সূত্রপাত বেশ কিছুদিন আগে। সম্প্রতি শ্রাবন্তী একটি নামী চ্যানেলের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানের ভিডিও এবং ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) ছড়িয়ে পড়তেই একদল নেটিজেন তাঁর শারীরিক গঠন নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য শুরু করেন। শুরু হয় মিম (Mime) আর ট্রোলিংয়ের (Trolling) বন্যা। প্রথম দিকে বিষয়টিকে পাত্তা না দিলেও, আক্রমণের ভাষা যখন শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন আর চুপ থাকতে পারেননি অভিনেত্রী।শুক্রবার কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম (Cyber Crime) বিভাগে ই-মেল (E-mail) মারফত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শ্রাবন্তী। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযোগটি গ্রহণ করেছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সাইবার সেলের একজন পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু প্রোফাইল এবং কমেন্ট সেকশন খতিয়ে দেখে দোষীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।
চরিত্রের প্রয়োজনে ওজন বৃদ্ধি, অথচ জুটল কটাক্ষ
একজন অভিনেত্রীকে চরিত্রের প্রয়োজনে অনেক সময় নিজের শরীরের ওপর কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। শ্রাবন্তীর ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক তেমনই ছিল। জানা গিয়েছে, অভিনেত্রী তাঁর আসন্ন ওয়েব সিরিজ (Web Series) ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ (Thakurmar Jhuli)-র শুটিং শেষ করেছেন। এই সিরিজে তাঁকে ‘ঠাকুরমা’-র চরিত্রে দেখা যাবে। সেই বিশেষ চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে প্রায় ১০ কেজি ওজন বাড়াতে হয়েছিল।একজন শিল্পী যখন নিজের কাজের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে শারীরিক পরিবর্তন ঘটান, তখন দর্শকদের একাংশের এমন নেতিবাচক মানসিকতা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। শ্রাবন্তীর কথায়, “ঠাকুরমার চরিত্রে অভিনয় করতে গেলে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতেই হয়। চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ফুটিয়ে তোলার জন্যই এই ওজন বাড়ানো। অথচ অনেকেই না জেনে চেহারার পরিবর্তন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন।”
“বাক স্বাধীনতা মানে উশৃঙ্খলতা নয়”
প্রতিবাদ প্রসঙ্গে ক্ষুব্ধ শ্রাবন্তী সংবাদমাধ্যমে জানান, “চুপ ছিলাম অনেকদিন। কিন্তু উশৃঙ্খলতা যখন সহ্যের বাইরে চলে যায়, তখন প্রতিবাদ করা দরকার ছিল। মানুষের বাক স্বাধীনতা (Freedom of Speech) আছে ঠিকই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে কেউ কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ বা বডি শেমিং করবে। শুধু আমি নই, আমাদের পেশার অনেক মানুষ এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটররা (Content Creators) প্রতিদিন এই ধরনের নোংরা পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। তাই এবার রুখে দাঁড়ানো প্রয়োজন ছিল।”অভিনেত্রী আরও যোগ করেন যে, শুটিং শেষ হওয়ার পর তিনি আবারও নিয়মিত শরীরচর্চা (Workout) শুরু করেছেন নিজের পুরনো চেহারায় ফেরার জন্য। তবে সমাজমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্য যে কাউকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে।
উপসংহার
সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমানে যেমন যোগাযোগের বড় মাধ্যম, তেমনই এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে একদল মানুষের বিষ উগড়ে দেওয়ার জায়গা। শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের এই সাহসী পদক্ষেপ টলিউডের অন্যান্য তারকাদেরও সাহস জোগাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সাইবার বুলিং (Cyber Bullying) বন্ধ করতে আইনি পথ বেছে নেওয়াটাই এখন সময়ের দাবি।

