আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei)-এর মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান (Iran) এবং ইজ়রায়েল (Israel)-এর মধ্যেকার এই বিধ্বংসী সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব বাজারে। বিশেষ করে অশোধিত তেলের (Crude Oil) আকাশছোঁয়া দাম এখন সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বিশ্ব অর্থনীতি এক গভীর মন্দার মুখে পড়তে পারে।
তেলের দামে আগুন: ৮০ ডলারের গণ্ডি পার
ইরান (Iran) বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের ওপর আমেরিকা (America)-র সম্ভাব্য আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude)-এর দাম প্রতি ব্যারেলে ৮০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। যদি পারস্য উপসাগর (Persian Gulf)-এর হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz), যা দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়, তা ইরান বন্ধ করে দেয়, তবে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা।
ভারত কেন চিন্তিত?
ভারত (India) তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা ভারতের জন্য দ্বিমুখী বিপদ ডেকে আনতে পারে:
১. পেট্রোল-ডিজেলের দাম: আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে ঘরোয়া বাজারেও জ্বালানির দাম বাড়তে বাধ্য। এতে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহণ খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে।
২. মুদ্রাস্ফীতি (Inflation): জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর। বিশেষ করে সবজি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
৩. শেয়ার বাজারে ধস: যুদ্ধের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE) এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE)-এ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সেনসেক্স (Sensex) ও নিফটি (Nifty) বড় পতনের মুখে।
রণক্ষেত্রের প্রভাব ও বুর্জ খলিফা আতঙ্ক
ইরানের পাল্টা হামলায় দুবাই (Dubai) এবং আবু ধাবি (Abu Dhabi)-র মতো বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো এখন থমকে গেছে। বিশ্বের উচ্চতম ভবন বুর্জ খলিফা (Burj Khalifa) খালি করে দেওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। যদি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (United Arab Emirates) বা সৌদি আরব (Saudi Arabia)-র তেল শোধনাগারগুলোতে বড় ধরনের হামলা হয়, তবে বিশ্বজুড়ে এনার্জি ক্রাইসিস (Energy Crisis) বা শক্তি সংকট তৈরি হবে।
আমদানিকারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর প্রশাসনের অবস্থান এবং ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড (Revolutionary Guard)-এর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে বিশ্ব বাজারের ভাগ্য। একদিকে আমেরিকা তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, তেহরান (Tehran)-এর ধোঁয়া আর সাইরেনের শব্দ এখন কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তার উত্তাপ অনুভূত হচ্ছে ভারতের মধ্যবিত্তের রান্নাঘরেও।

