back to top
Tuesday, June 16, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeবিবিধবাংলা গানে দোল

বাংলা গানে দোল

স্থলে জলে বনতলে... নিউজস্কোপ-এর নিবেদন

“ফাল্গুন মানেই বুকের মাঝে আনচান… “

“বসন্তে ফুল গাঁথল”, এখানে ওখানে হরেক আয়োজন

আবিরে রাঙালো কে আমায়

সুর ও প্রকৃতির মেলবন্ধন: বুড়োশিব দাশগুপ্তের ভাবনায় বিশ্বজনীন রবীন্দ্র-বসন্ত।

‘‘মধুর অমৃতবাণী বেলা গেল সহজেই”, ব্যস্ত রাজনীতিকরাও

পদ্ম! দোলে আসবে? আবার আমরা রঙ খেলব

লিখনশৈলীতে বসন্ত-ভাবনার রূপান্তর

চলচ্চিত্রে দোল ও হোলির গান: রঙ, প্রেম আর উচ্ছ্বাসের চিরন্তন সুর

প্রাচীন বাংলায় দোলযাত্রা

বসন্তের রঙে হৃদয়ের আলপনা: শান্তিনিকেতনের রাঙা ফাগুন

বাংলা গানে দোল

বসন্তের রঙে মিশুক না বিষ: ভেষজ আবিরেই হোক নিরাপদ দোল উৎসব

তপোব্রত ঘোষ

দোল মানেই রং, কিন্তু বাংলা গানে দোল মানে তার চেয়েও বেশি— অন্তরের রঞ্জন। “রাঙিয়ে দিয়ে যাও, যাও গো এবার যাবার আগে”— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর এই পংক্তি যেন দোলের চিরন্তন প্রার্থনা। এখানে আবির কেবল বাহ্য রং নয়, আত্মার গভীরে লেগে থাকা এক অনির্বচনীয় স্পর্শ। বাংলা গানে দোলের যে ঐশ্বর্য, তার প্রধান স্থপতি নিঃসন্দেহে রবীন্দ্রনাথ।

রবীন্দ্রসংগীতে বসন্ত ও দোল এক বিশেষ ঋতু-দর্শন। “ওরে গৃহবাসী, খোল দ্বার খোল”— এ যেন অন্তর-দ্বার উন্মুক্ত করার আহ্বান। “ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়” গানে হালকা দখিন হাওয়ার সঙ্গে মিশে যায় প্রেমের অনুরণন। “বসন্তে আজ ধরার চিত্ত হল উতলা”, “আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে”, কিংবা “মরিলে কান্দিস না আমার দায়”— প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে বসন্তের আবহে জীবনের রং বদলের কথা বলে। শান্তিনিকেতনের বসন্তোৎসবে যখন ছাত্রছাত্রীরা গেয়ে ওঠেন “রাঙিয়ে দিয়ে যাও” বা “ওরে ভাই, ফাগুন লেগেছে বনে বনে”, তখন দোল হয়ে ওঠে সাধনা ও সৌন্দর্যের মিলিত রূপ।

রবীন্দ্রনাথের দোল-ভাবনা কেবল উৎসবের নয়, দর্শনেরও। তাঁর গানে রং মানে নবজন্ম, মানে পুরাতনের অবসান। “আজি দোল দোল দোলনে দোলে” গানে তিনি জীবনের দোলাচলকে রাঙিয়ে দেন প্রেমের রসে। তাই দোল এখানে কৃষ্ণ-রাধার পৌরাণিক ইঙ্গিত ছুঁয়ে গেলেও, মূলত মানবমনের জাগরণ।

আরো পড়ুন:  মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা মধ্যপ্রদেশে, প্রাণ হারালেন ১০ জন, আহত বহু

রবীন্দ্র-উত্তর বাংলা গানে এই ঐতিহ্য প্রবহমান। কাজী নজরুল ইসলাম-এর “রঙিলা আবির খেলো হে” বা বসন্ত-প্রধান অসংখ্য গানে দোলের উচ্ছ্বাস বিদ্রোহী প্রাণে মিশেছে। তাঁর ভাষায়, বসন্ত “প্রাণে তোলে দোল”— সেখানে প্রেম যেমন আছে, তেমনি আছে শক্তির জাগরণ।

রবীন্দ্রসংগীতের শিল্পী-ঐতিহ্যও দোলের গানকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছে। দেবব্রত বিশ্বাস-এর গভীর কণ্ঠে “ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়” পেয়েছে ধ্যানমগ্নতা, আর কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কণ্ঠে বসন্ত হয়ে উঠেছে মাধুর্যময়। তাঁদের গায়নে দোল কেবল ঋতুগান নয়— এক অন্তর্মুখী অভিজ্ঞতা।

গবেষক পবিত্র সরকার মন্তব্য করেছিলেন, “বাংলা গানের দোল উৎসবের চেয়ে অনুভবের।” সত্যিই, পাড়ার জলসা থেকে চলচ্চিত্র— সর্বত্র দোলের গান জনপ্রিয় হলেও তার গভীরে আছে সাহিত্যিক ঐশ্বর্য।

মনের মতো করেই বলা যায়।বাংলা গানে দোল মানে রংয়ের আড়ালে এক সাংস্কৃতিক সাধনা। আবিরের দাগ মুছে যায়, কিন্তু “রাঙিয়ে দিয়ে যাও”-র সুর থেকে যায়। বসন্ত আসে প্রতি বছর, কিন্তু বাংলা গানের দোল চিরনবীন— রং মেখে থাকে কণ্ঠে, মর্মে, স্মৃতিতে।

স্থলে জলে বনতলে... নিউজস্কোপ-এর নিবেদন

বসন্তের রঙে হৃদয়ের আলপনা: শান্তিনিকেতনের রাঙা ফাগুন বসন্তের রঙে মিশুক না বিষ: ভেষজ আবিরেই হোক নিরাপদ দোল উৎসব

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments