টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আমাদের প্রিয় টিম ইন্ডিয়া (Team India)। কিন্তু মেগা লড়াইয়ে নামার আগে দলের অন্দরে বেশ কিছু চিন্তার কালো মেঘ ঘনিয়ে উঠেছে।
মার্চ মাসের এই গরমে মুম্বাই -এর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত সেমিফাইনাল ম্যাচ। প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে রয়েছে শক্তিশালী ইংল্যান্ড (England)। ক্রিকেটপ্রেমীদের নিশ্চয়ই মনে আছে ২০২২ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের সেই অভিশপ্ত সেমিফাইনালের কথা, যেখানে এই ইংল্যান্ড-এর কাছেই ১০ উইকেটে এক লজ্জাজনক হারের সম্মুখীন হতে হয়েছিল ভারতকে। তাই এবারের লড়াইয়ে নামার আগে অনেক বেশি সাবধানী রোহিত শর্মা এবং গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)-এর দল। তবে এই মুহূর্তে ভারতীয় শিবিরের প্রধান চিন্তার কারণ দুটি— এক, ওয়াংখেড়ে (Wankhede)-র সবুজ গালিচা বা পিচ এবং দুই, দলের দুই নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ের অফ-ফর্ম।
প্রথমে আসা যাক পিচের কথায়। মুম্বাই (Mumbai)-তে এখন প্রবল গরম। পিচ যাতে ফেটে না যায় এবং তার বাঁধন যাতে শক্ত থাকে, তার জন্য পিচের ওপর বেশ ভালো পরিমাণ ঘাস রাখা হয়েছে এবং নিয়মিত জল দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) ইতিমধ্যেই পিচ পরিদর্শন করেছেন এবং কিউরেটরদের সাথে দীর্ঘ আলোচনাও সেরেছেন। দলের বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল (Morne Morkel) জানিয়েছেন যে, গরমের কারণে পিচে জল দেওয়ার ফলে পিচ কিছুটা নরম হয়ে আছে। এর ফলে ম্যাচের দিন ঠিক কেমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা নিয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। যদি শেষ পর্যন্ত পিচে ঘাস থেকে যায়, তবে তা যেমন জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah) বা অর্শদীপ সিং (Arshdeep Singh)-দের সাহায্য করবে, তেমনই বিপক্ষ দলে থাকা জোফ্রা আর্চার (Jofra Archer)-এর মতো ভয়ংকর পেসারও কিন্তু ভারতীয় ব্যাটারদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারেন।
পিচের পাশাপাশি দলের অন্দরের একটি বড় সমস্যা হলো বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakaravarthy) এবং অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)-র ফর্ম। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই দুই তরুণের ওপর বিশাল প্রত্যাশা ছিল। আইসিসি (ICC) টি-২০ র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে থাকা সত্ত্বেও এই মেগা টুর্নামেন্টে তারা নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না। বিশেষ করে মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakaravarthy)-র বোলিং নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত টিম ম্যানেজমেন্ট। তাঁর লেন্থ এবং স্টক বলের রহস্য যেন বিপক্ষ দলের ব্যাটাররা সহজেই ধরে ফেলছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa) প্রথম দেখিয়েছিল কীভাবে বরুণকে অফস্পিনার ভেবে অনায়াসে খেলা যায় এবং তাঁকে আক্রমণ করা যায়। এরপর জিম্বাবোয়ে (Zimbabwe) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ (West Indies)-ও একই কৌশল অবলম্বন করে তাঁকে চাপে ফেলেছে।
তবে কি ১০ বছর আগের সেই যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি আবারও ফিরে আসবে? নাকি সমস্ত বাধা বিপত্তি এবং পিচের রহস্য ভেদ করে ফাইনালে পা রাখবে ভারত?
