নিউজস্কোপ বাংলা (Newscope Bangla) বিশেষ প্রতিবেদন: উৎসবের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যেই বদলে গেল এক অদ্ভুত আতঙ্কের আবহে। পবিত্র রামনবমী (Ramnavami) উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য মিছিলকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) রাজ্যের অন্তর্গত মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর জঙ্গিপুর (Jangipur)। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে হওয়া এই আকস্মিক ও তীব্র সংঘর্ষে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বাধ্য হয়ে পুলিশ এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বাহিনী তলব করতে হয় প্রশাসনকে। আমাদের নিজস্ব প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওই এলাকায় পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকেই শহরজুড়ে উৎসবের মেজাজ ছিল। অন্যান্য বছরের মতোই এবারও একটি বড় মাপের মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মিছিলটি শহরের নির্দিষ্ট রুট ধরে এগোচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মিছিলটি যখন শহরের একটি বিশেষ ও স্পর্শকাতর মোড় অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই কোনো একটি সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে বচসার সূত্রপাত হয়। শুরুতে দুই পক্ষের মধ্যে শুধুমাত্র কথা কাটাকাটি হলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই তা তুমুল সংঘর্ষে রূপ নেয়। শুরু হয়ে যায় এলোপাথাড়ি ইটবৃষ্টি এবং কাঁচের বোতল ছোঁড়াছুঁড়ি। কে বা কারা প্রথম এই অশান্তির বীজ বপন করেছিল, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে নিমেষের মধ্যে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
সংঘর্ষ চলাকালীন উন্মত্ত জনতার একাংশ রাস্তার ধারের বেশ কয়েকটি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট খোলা ফেলেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করেন। শুধু ভাঙচুরই নয়, অভিযোগ উঠেছে বেশ কয়েকটি দোকান এবং রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দু-একটি যানবাহনেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অগ্নিসংযোগ করা হয়। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের লেলিহান শিখা এবং চারদিকের কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। সাধারণ মানুষ ভয়ে নিজেদের গৃহবন্দি করে ফেলেন। উৎসবের দিন এমন একটি পরিকল্পিত বা অপরিকল্পিত হিংসাত্মক ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে, প্রাথমিক পর্যায়ে স্থানীয় পুলিশের পক্ষে তা সামাল দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। উন্মত্ত বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে রীতিমতো বেগ পেতে হয়। বাধ্য হয়ে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো এবং মৃদু লাঠিচার্জের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয় প্রশাসনকে। তাতেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি না হওয়ায়, পরিস্থিতি পুরোপুরি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে অবশেষে কেন্দ্রীয় বাহিনী তলব করা হয়। এলাকায় পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই রুটমার্চ শুরু করে আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরা। বর্তমানে পুরো এলাকা পুলিশের এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে।


Recent Comments