
মৌসুমী সেনগুপ্ত
সরস্বতী পুজো নিয়ে অনেকের মনে অনেক স্মৃতি আছে। কিন্তু কখনও কি কোথাও লেখা হয়েছে সবচেয়ে বড় সরস্বতী প্রতিমা কোথায় তৈরি হয়েছে? এ নিয়ে কখনও সমীক্ষা হয়েছে কোথাও? আমি অন্তত শুনিনি, জানা নেই।
তবে, ‘সুখদা বলাই ভ্লগ’ ২০ জানুয়ারি সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি দাখিল করে লিখেছেন, “বিশ্বের সর্ববৃহৎ মা সরস্বতীর প্রতিমা। জগন্নাথ হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়”। বাংলাদেশে মন্দির, দেব-দেবীর ওপর আক্রমণ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে সচিত্র লেখালেখি হচ্ছে। স্বাভাবিভাবেই মাত্রা পায় ছবিটি। ওই পোস্টের পর ২১শে, মানে বুধবার বেলা তিনটে পর্যন্ত ৯০৫টি প্রতিক্রিয়া এসেছে।
প্রণব কুমার নিয়োগী একটি ছবি দাখিল করে লিখেছেন, “এটিই সর্বোচ্চ সরস্বতী মূর্তি- ইন্দোনেশিয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়া যা ওয়াশিংটন ডিসিতে আছে।” ননীগোপাল বিশ্বাস লিখেছেন, “এটা বিশ্বের সর্বোচ্চ স্বরস্বতী মুর্তি না। জেনে শুনে পোস্ট করা উচিৎ।” জবাবে সুখদা বলাই লিখেছেন, “জেনে শুনেই করা হয়েছে। কারো ভুল ধরার পূ্র্বে উপযুক্ত প্রমাণ সহ উপস্থাপন করে কমেন্ট করা উচিত!” তাঁর দেওয়া এই মূর্তি গত বছরের।
ননীগোপাল বিশ্বাস লিখেছেন, “এটা যে পৃথিবীর সর্বোচ্চ সরস্বতী প্রতিমা তার কি প্রমান আছে? আমি ইন্দোনেশিয়ায় বালী দ্বীপে একটা মহিলা কলেজের সামনে ২৫ ফিট উঁচু এ স্বরস্বতী মায়ের প্রতিমা দেখেছি।” এই প্রসঙ্গে তিনি প্রনব নিয়োগীর মন্তব্য এবং মুর্তির প্রসঙ্গও তুলেছেন। জবাবে সুখদা বলাই লিখেছেন, “আবারও উপযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপন না করে ভুল ধরলেন। প্রথমত ইন্দোনেশিয়ার এটি প্রতিমা নয় ভাস্কর্য! ভাস্কর্য আর মায়ের প্রতিমা এক নয়! দ্বিতীয়ত, আপনার কথা মেনে নিলাম এটি ২৫ ফিট! কিন্তু জগন্নাথ হলের এই সরস্বতী প্রতিমা ২৫ ফুটেরও অধিক উচুঁ!”
আয়ূষ মণ্ডল টালা প্রত্যয়ের একটি সরস্বতী প্রতিমার ছবি দিয়ে লিখেছেন, “টালা প্রত্যয়ের নাম শুনেছ?” জবাবে সুখদা বলাই লিখেছেন, “না শোনার কি আছে! ভিডিওতে যে প্রতিমা দেখা যাচ্ছে তা পোষ্টের প্রতিমা থেকে অনেক ছোট।” এই বিতর্কের মাঝেই হিরক রায় জগন্নাথ হলের এবারের নির্মিয়মান সরস্বতী প্রতিমার ছবি পেশ করেন। সেটিও বেশ বড়!
এই বিতর্কে সর্বসম্মতক্রমে স্বীকৃতি না পেলেও সুখদা বলাইয়ের দাবি অনেকাংশেই মান্যতা পেতে পারে। কারণ, এর চেয়ে বড় সরস্বতী প্রতিমার প্রমাণ কেউ দাখিল করতে পারেননি। তবে, মন খারাপের প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন কেউ কেউ। পার্থ রুদ্র লিখেছেন, “তাতে কী লাভ হলো? প্রতিমা বড় করেই বৃহৎ কিছু করা গেল কী?” জবাবে সুখদা বলাই লিখেছেন, সব কিছুতে লাভক্ষতি হিসাব চলে?
সঞ্জয় চক্রবর্তী লিখেছেন, “জয় মা সরস্বতী। বাংলাদেশের মানুষের মনে চেতনার উদয় হোক। বীথি শর্মা লিখেছেন, “প্রতিমা কত বড় হলো তা মূর্খ্য বিষয় নয়। এই প্রতিমাকে রক্ষা করতে পারাটাই হলো বড় বিষয়।” নির্মল দত্ত লিখেছেন, “সরস্বতীকে ধারণ করতে হবে হৃদয়ে, বড় হতে জ্ঞানে ও প্রজ্ঞায়। প্রতিমা বড় না করে মেধাকে বড় করতে হবে।” কেয়া দেবনাথ লিখেছেন, “জয় মা সরস্বতী, প্রতিমা বড় হোক কিংবা ছোট সেটা আসল বিষয় নয়। দেবী মূর্তিকে রক্ষা করাটাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে আসল বিষয়।”

