উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Parganas) জেলার কামারহাটি (Kamarhati) পুরসভার অন্দরে রাজনৈতিক ভূমিকম্প। শুক্রবার আকস্মিকভাবে চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন গোপাল সাহা (Gopal Saha)। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তবে ঘটনার জল আরও দূর পর্যন্ত গড়াল, যখন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra) দলের সকল কাউন্সিলরকে পদত্যাগের জন্য কার্যত নির্দেশ দিয়ে বসলেন।
মদন মিত্রের বিস্ফোরক পোস্ট ও অবস্থানগোপাল সাহার ইস্তফার পরই শুক্রবার গভীর রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ এবং আবেগঘন পোস্ট করেন মদন মিত্র। বিধায়কের সেই পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তিনি স্পষ্ট অভিযোগ তুলেছেন যে, গোপাল সাহাকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অপদস্থ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দিনের পর দিন গোপাল সাহা যে ধরনের লাঞ্ছনা ও অসভ্য আচরণের শিকার হয়েছেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
মদন মিত্রের দাবি, কামারহাটি পুরসভার ভেতরে এক অদৃশ্য শক্তি গোপাল সাহাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। বারংবার অপমানের দগদগে ক্ষতই শেষ পর্যন্ত তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতৃত্বের একটি বড় অংশ।সব কাউন্সিলরকে পদত্যাগের নির্দেশপরিস্থিতি সামাল দিতে বা দলের অন্দরের ক্ষোভ প্রশমিত করতে সরাসরি পথে নেমেছেন বিধায়ক। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া বার্তার মাধ্যমে কামারহাটি পুরসভার সকল তৃণমূল কাউন্সিলরকে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মদন মিত্রের এই নির্দেশ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এক বড় চাল।
বিধায়ক কি তবে পুরসভার অন্দরে থাকা বিরোধীদের চিহ্নিত করতে চাইছেন? নাকি পুরো বোর্ড ভেঙে নতুন করে নতুন মুখদের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে কানাঘুষো।কামারহাটির বর্তমান পরিস্থিতিবর্তমানে কামারহাটি পুরসভা এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা, সকলেই পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে।
দলের উচ্চপদস্থ নেতৃত্ব এই ঘটনায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান, সেদিকেও নজর রয়েছে সবার। গোপাল সাহার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এলাকায় যথেষ্ট ভালো বলে পরিচিত, তাই তাঁর এই আচমকা পদত্যাগ অনেককেই অবাক করেছে।এখন দেখার বিষয়, মদন মিত্রের এই কড়া অবস্থানের পর কামারহাটি পুরসভার অন্দরের বিবাদ মিটবে, নাকি এই ইস্তফাপর্ব আরও বড় কোনো রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে। প্রশাসন এবং দলের জেলা নেতৃত্ব এই পরিস্থিতিকে কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


Recent Comments