৫ দিনের টানা উত্থানের পর এক ধাক্কায় লণ্ডভণ্ড ভারতীয় শেয়ার বাজার। গ্লোবাল টেক জায়ান্ট অ্যাকসেঞ্চার (Accenture) তাদের পুরো বছরের রেভিনিউ বৃদ্ধির পূর্বাভাস বা গাইডেন্স কমিয়ে দেওয়ার পরেই শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ তারিখে ধস নামল ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি (IT) ক্ষেত্রের শেয়ারগুলিতে। এই একটি মাত্র ধাক্কায় দুলতে থাকা শেয়ার বাজারে আইটি সেক্টর থেকেই একক সেশনে প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজার মূলধন (Market Cap) কর্পূরের মতো উড়ে গিয়েছে।
ইউএস ওয়াল স্ট্রিটে অ্যাকসেঞ্চারের শেয়ার আচমকা ১৮ শতাংশ ভেঙে পড়ার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দালাল স্ট্রিটের ওপর।
নিফটি আইটি ইনডেক্সে রেকর্ড পতন, তলানিতে বড় শেয়ারগুলো
শুক্রবার বাজার খুলতেই ব্লাডবাথ শুরু হয় আইটি কাউন্টারগুলোতে। নিফটি আইটি (Nifty IT) সূচক এক ধাক্কায় ৬ শতাংশের কাছাকাছি কমে গিয়ে ২৬,৬৩৪ পয়েন্টের নতুন ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরে এসে ঠেকেছে।
বাজারের প্রধান আইটি জায়ান্টদের পতনের খতিয়ান নিচে দেওয়া হলো:
- ইনফোসিস (Infosys): সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ইনফোসিস। আজ তাদের শেয়ারের দর প্রায় ৮.৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
- টিসিএস (TCS): দেশের বৃহত্তম আইটি রফতানিকারক সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের শেয়ার দর প্রায় ৬.৫ শতাংশের বেশি ধসে গিয়েছে।
- টেক মহিন্দ্রা ও এইচসিএল টেক: টেক মহিন্দ্রা ৭ শতাংশ এবং এইচসিএল টেক প্রায় ৬ শতাংশ পতন নথিভুক্ত করেছে।
- উইপ্রো (Wipro): তুলনামূলকভাবে কম হলেও উইপ্রোর শেয়ার দর প্রায় ৪.২৯ শতাংশ কমেছে।
- মিড-ক্যাপ আইটি: শুধু বড় সংস্থাই নয়, পারসিস্টেন্ট সিস্টেমস, কোফোর্জ এবং এমফাসিস-এর মতো মিড-ক্যাপ আইটি স্টকগুলিও ৫ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত ধাক্কা খেয়েছে।
এই ব্যাপক বিক্রির জেরে ৩০টি শেয়ার সমৃদ্ধ বিএসই সেনসেক্স (BSE Sensex) প্রায় ৮১৫ পয়েন্ট পড়ে ৭৬,৫৯৪.৯৬ স্তরে নেমে যায় এবং এনএসই নিফটি (NSE Nifty) ২১২.৮৫ পয়েন্ট হারিয়ে ২৩,৯৫৯.৯৫-এ চলে আসে।
কেন এই হাহাকার? কী বলেছে অ্যাকসেঞ্চার?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলির ব্যবসার একটা বড় অংশ নির্ভর করে আমেরিকার মতো বিশ্ব বাজারের ক্লায়েন্টদের খরচের ওপর। অ্যাকসেঞ্চার তাদের লোকাল কারেন্সি রেভিনিউ গ্রোথ গাইডেন্স ৩-৫% থেকে কমিয়ে ৩-৪% করার ঘোষণা করতেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে, বিশ্বজুড়ে বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন করে টাকা ঢালতে বা খরচ করতে চরম সতর্কতা অবলম্বন করছে।
পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা জেনারেটিভ এআই (Generative AI)-এর দ্রুত অগ্রগতি প্রথাগত আইটি পরিষেবা ও আউটসোর্সিংয়ের দীর্ঘমেয়াদী চাহিদাকে কমিয়ে দিতে পারে— এই আশঙ্কাই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্কের আবহ তৈরি করেছে। ব্রোকারেজ হাউসগুলির আশঙ্কা, এই ধাক্কার জেরে আগামী কোয়ার্টারগুলোতে ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলির উপার্জনের পূর্বাভাসও আরও কমতে পারে।


Recent Comments