উত্তরপ্রদেশের দুঁদে অফিসার অজয় শর্মাকে খলনায়ক বানানোর চেষ্টায় টিভি-র খবরের সম্প্রচারে আনার অভিযোগ করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। একটি বেসরকারি চ্যানেলের খবরে তাঁর দাম্পত্য কলহের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
এক ব্যক্তি সম্প্রচারিত খবরের যোগসূত্র যুক্ত করে কমিশনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে লিখেছেন, “দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এতটাই বিপজ্জনক, স্বাভাবিক ভোটগ্রহণ নেওয়া অসম্ভব। এসবের একটা বড় অংশে বিশেষ সম্প্রদায়ের সুবোধ বালকদের বাস। এই জেলাতেই এসআইআর-এর কাজের সময় বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক প্রশাসক (রোল অবজার্ভার)। তিনি প্রতিক্রিয়ায় সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, “আমি আমার কাজ করেছি।”
এই জেলায় উত্তরপ্রদেশের দুঁদে অফিসার অজয় শর্মাকে স্বাভাবিক ভোটগ্রহণের স্বার্থে পূর্ববর্তী যাবতীয় ব্যবস্থাগ্রহণের দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন। তিনি বিপজ্জনক’-দের তালিকা হাতে তাঁদের সতর্ক করে দিচ্ছেন। এ নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে। হাইকোর্টে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। হাইকোর্ট মামলা গ্রহণ করেনি। একটি নাইট ক্লাবে তাঁর ভিডিয়ো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে পারিবারিক অশান্তি ও স্ত্রীয়ের অভিযোগ।
এ প্রসঙ্গে মনে করিয়ে দিই, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ স্নেহের বলে পরিচিত এক প্রাক্তন সিপি (কলকাতা পুলিশের ৩৬-তম সিপি) এবং ডিজি-র বিরুদ্ধে দাম্পত্য কলহের এরকম অভিযোগ ছিল। অবসরের পর (from 1 June 2018 to 31 May 2021) তিনি স্টেট সিকিউরিটি অবজার্ভার পদে আসীন হন। তার পর একটি বিশেষ দায়িত্ব পান। এখনও সেই দায়িত্বে আছেন।
তাঁর স্ত্রী বিভিন্ন স্তরে সাহায্য প্রার্থনা করেও সুবিচার পাননি। বয়স্ক মা-কে নিয়ে থাকতেন। ডুবন্ত মানুষ খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচার চেষ্টা করে। প্রশাসনিক বাধায় বিপর্যস্ত ওই মহিলা প্রকাশ্যেই বিজেপি-র সহায়তা চান। বিজেপি অফিসে এসে বসে থাকতেন। কিন্তু কার্যকরী সহযোগিতা না পেয়ে ক্রমে বিজেপি অফিসে আসা বন্ধ করে দেন। মা মারা যান। বিষয়টা ব্যক্তিগত, তাই এ নিয়ে লেখালেখি হয়নি। মহিলার নাম-ঠিকানা জানা নেই। এখন কী করছেন, জানিনা। খুবই দুঃখের পারিবারিক ঘটনা। সবার দাম্পত্য জীবন সুখের হোক।
নির্বাচনী বৃত্তে অজয় শর্মাকে নিয়ে ব্যক্তিগত কাদা ছোঁড়ার এরকম রটনা আমজনতার একাংশকে প্ররোচিত করছে। তৈরি করছে একটা অশুভ প্রবণতা। এতে স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পরোক্ষে বাধা পাবে। সরকারি কাজ বাধা পেতে পারে, কারও ব্যক্তিগত জীবনের এমন অধ্যায়কে কি প্রকাশ্যে তুরূপের তাস করা উচিত?
ভোটের প্রাক্কালে সংবেদনশীল বিষয়টা সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের নজরে আনা উচিত কি না, কমিশন ভেবে দেখতে পারে। এটা নিছক সবিনয় আবেদন।”


Recent Comments