Susmita Das: হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত ও জাহাজ চলাচলের ঝুঁকির মধ্যেই পশ্চিম এশিয়া থেকে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি বাড়াল ভারত। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উপসাগরীয় দেশগুলির রফতানিকারীরা এবার জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তর বা ‘শিপ-টু-শিপ’ (STS) পদ্ধতির উপর বেশি নির্ভর করছেন। এই কৌশলে একটি ছোট ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জলসীমায় পৌঁছে অন্য জাহাজে গ্যাসের পণ্য স্থানান্তর করে।
ফলে মূল জাহাজকে বিপজ্জনক জলপথে দীর্ঘ সময় থাকতে হচ্ছে না।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর ৫ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পণ্যবাহী জাহাজের গতিবিধি বিশ্লেষণকারী সংস্থা Kpler-এর প্রাথমিক তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে ভারতের গড় মাসিক এলপিজি আমদানি বেড়ে হয়েছে ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ৩১৫ টন। মার্চ-আগস্টের গড়ের তুলনায় যা প্রায় ২৪০ শতাংশ বেশি। কুয়েত থেকে আমদানি বেড়েছে প্রায় ২৪৮ শতাংশ। কাতার থেকেও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে সামগ্রিক আমদানির পরিমাণ এখনও যুদ্ধের আগের স্তরে পৌঁছয়নি।
সংঘাতের প্রথম পর্যায়ে হরমুজ় দিয়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভারতকে আমেরিকা-সহ বিকল্প দেশ থেকে এলপিজি আমদানি বাড়াতে হয়েছিল। একই সঙ্গে দেশীয় শোধনাগারগুলিতে উৎপাদন বাড়ানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে সরবরাহ কিছুটা ফিরলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ় প্রণালীতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়লে আমদানি আবার ব্যাহত হতে পারে।
ফলে বিকল্প সরবরাহকারী দেশ এবং নিরাপদ পরিবহণপথের উপর নির্ভরতা বজায় রাখতে হবে ভারতকে।

Recent Comments