বিধাননগরের প্রাক্তন পুরপ্রধান এবং তৃণমূল (TMC) নেতা সব্যসাচী দত্তকে (Sabyasachi Dutta) ঘিরে ফের প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। রবিবার দুপুরে তাঁকে পুলিশি পাহারায় নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর নিজস্ব ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের অফিসে। তোলাবাজি ও ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগে ধৃত এই নেতার উপস্থিতিতেই কার্যালয়ে চলে দীর্ঘ তল্লাশি। তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন কার্যালয় থেকে বেরোনোর সময় তাঁকে লক্ষ্য করে তীব্র বিক্ষোভ দেখানো হয়।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার দুপুর ১টা নাগাদ , যখন বিধাননগর (Bidhannagar) উত্তর থানার পুলিশ সব্যসাচীকে নিয়ে পৌঁছায় সল্টলেকের (Salt Lake) ওই কার্যালয়ে। সূত্রে খবর,সব্যসাচী একসময় এই ওয়ার্ডেরই কাউন্সিলর ছিলেন। পুলিশের তরফে যখন কার্যালয়ের ভেতর নথিপত্র বা অন্যান্য তথ্য খোঁজা হচ্ছিল, বাইরে তখন ভিড় জমতে শুরু করে। সব্যসাচী পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে অফিস থেকে বেরোতেই আচমকা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আগেই পুলিশ দ্রুত তাঁকে ঘিরে ধরে গাড়িতে তুলে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
এর আগেও একই ধরণের পরিস্থিতির সাক্ষী হয়েছেন এই তৃণমূল নেতা। গত মঙ্গলবার যখন পুলিশ তাঁকে আদালতে নিয়ে যাচ্ছিল, তখনও তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছিল। শুধু ডিম নয়, নানা ধরণের আপত্তিকর মন্তব্যের মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে।
কিন্তু কেন এই বিক্ষোভ? পুলিশ সূত্রে খবর, সল্টলেকের এক স্থানীয় ব্যবসায়ী সব্যসাচীর বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও হুমকির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ ছিল, তাঁর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা দাবি করে নিয়মিত চাপ দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ নড়েচড়ে বসে। সোমবার রাতে রাজারহাটের (Rajarhat) রাইগাছি (Raigachi) এলাকায় সব্যসাচীর বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতেই তাঁকে আটক করা হয় এবং পরে গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বারাসত (Barasat) কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়েছিলেন সব্যসাচী দত্ত। তবে রাজনৈতিক সমীকরণে তিনি বিজেপি (BJP) প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এই প্রভাবশালী নেতার গ্রেফতারি এবং তারপরেই এই ধরণের জনবিক্ষোভ রাজ্য রাজনীতিতে বেশ বড়সড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


Recent Comments