নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে এবার ভবানীপুর কেন্দ্রের স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাইস্কুলের স্ট্রংরুমে গতকাল তৃণমূলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ উপস্থিতির পর, আজ সন্ধ্যায় সেখানে তড়িঘড়ি পৌঁছালেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।
মমতার সফর ও বিজেপির বিক্ষোভগতকাল বিকেলে ইভিএম (EVM) কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্ট্রংরুমে পৌঁছেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি প্রায় ৪ ঘণ্টা অবস্থান করেন। সেই সময় স্কুলের বাইরে বিজেপি সমর্থকরা তাঁকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ সন্ধ্যায় ওই একই স্ট্রংরুমে হাজির হন শুভেন্দু অধিকারী।নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি ও কড়া বিধিনিষেধগতকালকের ঘটনার পর থেকে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল চত্বরে নিরাপত্তার নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু হয়েছে।
কলকাতা পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে:
২০০ মিটারের নিষেধাজ্ঞা: আগে স্ট্রংরুমের ১০০ মিটারের মধ্যে জমায়েত নিষিদ্ধ ছিল, তবে বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে তা বাড়িয়ে ২০০ মিটার করা হয়েছে।
১৬৩ ধারা জারি: বিএনএস (BNS)-এর ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) প্রয়োগ করে এলাকায় যেকোনো ধরণের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।রাস্তা বন্ধ: থিয়েটার রোড ও এক্সসাইড মোড়কে সংযোগকারী রাস্তাটি সাধারণের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র ওই এলাকার বাসিন্দাদের পরিচয়পত্র যাচাই করে গাড়ি নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রহরা: স্ট্রংরুমের সুরক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারাও এলাকায় টহল দিচ্ছেন।প্রার্থী ও এজেন্টদের প্রবেশে নিয়মনির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, একমাত্র প্রার্থী এবং তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টরাই স্ট্রংরুম চত্বরে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। প্রার্থীদের সঙ্গে আসা অনুগামীদের নির্দিষ্ট দূরত্বের ব্যারিকেডের বাইরেই আটকে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সিসিটিভি (CCTV)-র মাধ্যমে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে যাতে কোনোভাবেই অননুমোদিত কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।
সন্ধ্যায় শুভেন্দু অধিকারী যখন সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছান, তখন সেখানে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ছিল। ইভিএম-এর সুরক্ষা এবং স্ট্রংরুমের ভেতরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই তাঁর এই সফর বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুর কেন্দ্রের মর্যাদার লড়াইয়ে কোনো পক্ষই এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ, আর স্ট্রংরুমের এই ‘ভিজিট’ সেই স্নায়ুযুদ্ধেরই বহিঃপ্রকাশ।
বর্তমানে গোটা এলাকা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে। কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে


Recent Comments